ধীরে দৌড়ানোর আনন্দ এবং উপকারিতা
“আরে ভাই, আপনার পেস কত?” – এই প্রশ্নটা আমাদের রানিং কমিউনিটিতে যেন প্রতিদিনের রুটিন। রানাররা একে অন্যের পেস শুনে মুগ্ধ হয়, কেউ কেউ আবার একটু হতাশ হয়। যারা দ্রুত দৌড়াতে পারে, তারা যেন সুপারস্টার, আর যারা ধীর গতিতে দৌড়ায়, তারা বোধহয় দর্শক!
আমি নিজেও যে খুব ভালো পেস রেখে দৌড়াই, তা নয়। তাই মাঝে মাঝে ভাবি, “ধীরে দৌড়ানো কি আদৌ কোনো কাজে আসে?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি আবিষ্কার করলাম, স্লো-রানিং আসলে আমাদের শরীর ও মনের জন্য এক অসাধারণ কার্যকর উপায়। তাই ভাবলাম, এই অভিজ্ঞতা আপনাদের সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করি।
আসুন স্লো রান বিষয়ে জানতে একটু প্রাচীন যুগ থেকে ঘুরে আসি। আপনি জানেন কি? প্রাচীনকালে মানুষ শিকারের জন্য ধীরগতিতে দৌড়াত। আমাদের পূর্বপুরুষেরা একটা কাজ করত যাকে বলে পার্সিস্টেন্স হান্টিং। একটা শিকার ধরার জন্য তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীর গতিতে শিকারকে তাড়া করত। যেহেতু মানুষ ঘামে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে পারে, কিন্তু প্রাণীরা পারে না, তাই সেই শিকার প্রাণী অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ত, আর তখনই মানুষ সেটাকে ধরে ফেলত।
এখন ভাবুন, সেই শিকারের দৌড় যদি দ্রুত দৌড় হত, তাহলে কী হতো? কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ত এবং খালি হাতে ফিরে আসত। তাই ধীর গতিতে দৌড়ানোর এই ঐতিহ্যই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।
স্লো-রানিংয়ের মজার কিছু তথ্য
১. ধীর গতিতে দৌড়ানোর সময় আপনার শরীর অ্যারোবিক জোনে থাকে, যেখানে শরীরের চর্বি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দ্রুত দৌড়ানোর সময় শরীর মূলত কার্বোহাইড্রেট পোড়ায়।
২. ধীর গতিতে দৌড়ালে আপনার হার্ট এবং লাংসের সহনশীলতা বাড়ে।
৩. কচ্ছপ কিন্তু খরগোশকে হারিয়েছিল কারণ সে তার গতিতে স্থির ছিল! এটা ভাবলে স্লো-রানারদের গর্ব হওয়া উচিত।
আমাদের রানিং কমিউনিটির অনেকেই মনে করেন দ্রুতগতিই সবকিছু। তবে স্লো-রানারদের জন্য আমার বার্তা হলো, আপনার দৌড় আপনার গল্প।ধীরে হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর আনন্দ সবার জন্য সমান। অন্যের গতি নিয়ে ভাববেন না। বরং নিজেকে নিয়ে গর্ব করুন।
আর যারা দ্রুতগতির রানার, তারা কখনো ধীর গতিতে দৌড়ানোর চেষ্টা করেছেন কি? একবার চেষ্টা করে দেখুন। হয়তো আপনি নতুন করে দৌড়ানোর আনন্দ আবিষ্কার করবেন।
আমার পেস ৮ মিনিট। এক দ্রুতগতির রানার এটা শুনে আমাকে বলছিলো “আমার হাটাও তো আপনার দৌড়ের চাইতে দ্রুত”।
আপনার লেখা পড়ে একটু কনফিডেন্স পেলাম।
নিয়মিত রানিং করুন পেস আস্তে আস্তে উন্নতি হবেই