Listen to Your Body এবং শরীরের বিদ্রোহ
দীর্ঘ একটি বিরতি দিয়ে দৌড়ালাম DHAKA INTERNATIONAL MARATHON 2025-এ।
সেহেতু ফিটনেস আগের মতো ভালো ছিল না, তাই হাফ ম্যারাথন ক্যাটাগরিতে রেজিস্ট্রেশন করলাম।
রান শুরুর পর থেকেই মনে হচ্ছিল, যেন কেউ কানে কানে বলছে—
“Listen to your body, Listen to your body…”
এই “Listen to your body” কথাটির সাথে আমার এক মজার স্মৃতি জড়িয়ে আছে!
August 26, 2022 – UCR 5K ফান রান দিয়ে আমি প্রথম কোনো ইভেন্টে অংশ নেই।
ওই বিরতিহীন ৫ কিলোমিটার দৌড় আমার জন্য বিশাল কিছু ছিল! কিন্তু ততদিনে দৌড়ের প্রেমে পড়ে গেছি। তাই কিছুদিন পর আরেকটি 7.5K ইভেন্টে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম, একেবারে হুজুগে!
কিন্তু মনে একটাই ভয়—আমি কি পারবো?
কয়েকজন অভিজ্ঞ রানারের পরামর্শ চাইলাম। তারা কার্যকর কিছু টিপস দিলেন, সাথে একগাদা মোটিভেশন। কিন্তু সবশেষে একটাই পরামর্শ—
“Listen to your body.”
তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, “বুঝেছো তো?”
আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, “হুম!” (আসলে কিছুই বুঝিনি, হা হা হা!)
দৌড়ের দিন: শরীরের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ!
সেইদিন ভোরবেলা, হাতিরঝিলের পথে দৌড় শুরুর জন্য আমি তৈরি! আমি আমার মস্তিষ্ককে জানালাম—
“আজকের রেস ৭.৫ কিলোমিটার!”
সারা শরীর জুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল!
মস্তিষ্ক: “হাতিরঝিলের বাতাসে দৌড়ানোর মজাই আলাদা! কিন্তু… ৭.৫ কিলো?! আমি ঠিক শুনেছি তো?”
পা: “সাত কি দশ, আমার কাছে কোনো ব্যাপারই না! আমি তৈরি!”
হৃদয়: “চলো, আজ ইতিহাস গড়বো! ছন্দে ছন্দে চলতে হবে!”
ফুসফুস: “একদম ঠিক! বাতাস নাকে নাও, মুখ দিয়ে ছাড়ো! ব্যাস, আর কিছু লাগবে না!”
পেট: “বলো তো দেখি, আজকে আবার কী বিপদ ডেকে আনলি? আর সকালে কিছু খেতে দিলি না, এখন তো বিপদ হবেই!”
হাঁটু: “সত্যি বলতে, আমিও একটু চিন্তিত!”
কিন্তু আমি এই হৈচৈ না শোনার ভান করে জুতোর ফিতা ঠিক করে আয়োজকদের কাউন্টডাউনের সাথে নিজেকে প্রস্তুত করলাম…
৩… ২… ১… দৌড় শুরু!
প্রথম কিলোমিটার: আমি উড়ছি!
শুরুর মুহূর্তে নিজেকে অদম্য লাগছে! হাতিরঝিলের বাতাস, মানুষের উল্লাস—সবকিছুই অসাধারণ!
হৃদয়: “আহ! কী চমৎকার অনুভূতি!”
পা: “আমি সুপার ফাস্ট! আজকের দিনটা দারুণ হতে যাচ্ছে!”
ফুসফুস: “বাহ! নিঃশ্বাস নেওয়া বেশ স্বাভাবিক লাগছে!”
মস্তিষ্ক: “খুব ভালো, শুধু বেশি উচ্ছ্বাস দেখাস না!”
পেট: “আমি এখনো চুপ করে আছি, কিন্তু সাবধান থাকিস!”
আমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে চললাম…
দ্বিতীয় কিলোমিটার: ছোটখাটো বিদ্রোহ শুরু!
কয়েকজন রানার আমাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে।
আমি তাদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে গতি বাড়িয়ে দিলাম…
পা: “উহ, একটু ব্যথা লাগছে!”
হাঁটু: “হুম, আমিও টের পাচ্ছি!”
ফুসফুস: “শ্বাস একটু ভারী হয়ে আসছে, একটু ধীরে দৌড়া!”
হৃদয়: “নাহ, এখনো ভালোই আছি! চলতে দাও!”
পেট: “আমাকে একটু পানি দাও, নাহলে বিপদ!”
আমি বোতল থেকে এক চুমুক পানি খেলাম…
তৃতীয় কিলোমিটার: সর্বনাশ!
পেট: “এই, এই! আমাকে আরো পানি দাও! আমি এখনই বিদ্রোহ করব!”
ফুসফুস: “ভাই, আমিও যোগ দিচ্ছি! তোর সাথে”
পা: “ধুর, আরেকটু ধীরে দৌড়াতে হবে!”
মস্তিষ্ক: “না, না, দৌড় বন্ধ করা যাবে না! মান-সম্মানের ব্যাপার!”
কিন্তু পেটে মোচড়ানো ব্যথা শুরু হলো…
চতুর্থ কিলোমিটার: পুরো শরীরের বিদ্রোহ!
হৃদয়: “বন্ধুরা, আমি ক্লান্ত!”
ফুসফুস: “আমিও! দম নিতে কষ্ট হচ্ছে!”
পা: “আমি আর চলতে পারছি না!”
হাঁটু: “আমার হাড় গুঁড়িয়ে যাচ্ছে!”
পেট: “আমি তো বলেইছিলাম!”
মস্তিষ্ক: “আরে না, না! আর মাত্র তিন কিলো! একটু চেষ্টা করো!”
আমি ভয় নিয়ে দৌড়াতে থাকলাম…
পঞ্চম কিলোমিটার: যুদ্ধের শেষ ধাপ!
আমি টলতে টলতে দৌড়াচ্ছি…
হৃদয়: “একটু মনোবল রাখো! আর মাত্র কিছুটা!”
ফুসফুস: “আমি শেষ! আমার আর বাতাস নেই!”
পা: “আমারও না!”
মস্তিষ্ক: “আরে, নাহ! থামতে পারবে না!”
পেট: “হাহাহা! এবার বোঝো!”
কিন্তু আমি কোনোভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি…
ষষ্ঠ কিলোমিটার: বেঁচে থাকার আশা!
দূর থেকে ফিনিশ লাইন দেখা যাচ্ছে, কিন্তু পা যেন আর চলে না!
হৃদয়: “তুই পারবি! আর মাত্র এক কিলো!”
পা: “এক কিলো অনেক বড় কথা ভাই!”
ফুসফুস: “দম নিতে কষ্ট হচ্ছে! সাহায্য করো!”
মস্তিষ্ক: “দেখ, এখন যদি থামিস, জীবনেও এটা শেষ করতে পারবি না!”
আমি কষ্ট করে নিজের গতি বাড়ালাম…
সপ্তম কিলোমিটার: বিজয় নাকি পরাজয়?
আমি ফিনিশ লাইনের একদম কাছে। শরীরের প্রতিটি অংশ এখন চিৎকার করছে!
হৃদয়: “আর মাত্র কয়েক ধাপ!”
পা: “একটা, দুটো, তিনটা… আমি শেষ!”
ফুসফুস: “আমার অক্সিজেন শেষ!”
হাঁটু: “আমি এখনই ভেঙে পড়ব!”
কিন্তু…
আমি কোনোভাবে ফিনিশ লাইন পার করে দিলাম!
শেষ দৃশ্য: বিজয়!
আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বসে পড়লাম…
মস্তিষ্ক: “এই নরম শরীরটা নিয়ে আর দৌড়ানো যাবে না!”
হৃদয়: “আরে, আমি তো আরও ১০ কিলো দৌড়াতে পারতাম!”
পা: “হ্যাঁ, আমিও!”
ফুসফুস: “আমরা তো ঠিকই ছিলাম!”
পেট: “না, আমি বলছি দৌড়ের পর এখন কাচ্চি খাওয়ালে দারুন হবে”
সবাই একসাথে হেসে উঠল!
Dhaka International Marathon 2025-এ দৌড়ানোর সময় সেই দিনের কথা মনে পড়ে গেল।
সেদিনের কষ্ট আজ হাসির খোরাক, কিন্তু একটা শিক্ষা দিয়েছে—
“Listen to your body” শুধু একটা পরামর্শ নয়, এটা সফল রানারদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র!
কখন গতি বাড়ানো দরকার, কখন বিশ্রাম দরকার, কখন পানি খাওয়া উচিত—এগুলো বুঝতে পারলে আমরা আরও শক্তিশালী রানার হতে পারবো! তাই আমি এবার সত্যিই বলছি—
“Listen to your body!”